সংখ্যা পদ্ধতি NTRCA ICT স্কুল পর্যায় লিখিত পর্ব ৫

By | May 14, 2024

সংখ্যা পদ্ধতি Number System

NTRCA বা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন এর স্কুল পর্যায়ে ICT বিষয়ে লিখিত পরীক্ষার সিরিজে আপনাদের সকলকে স্বাগতম। এই সিরিজে স্কুল পর্যায়ে শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষার সকল কনটেন্ট আপলোড করা হবে। প্রতিটি পর্বের জন্য থাকছে ইউটিউব ভিডিও।

আজকের বিষয় হলো সংখ্যা পদ্ধতি। অর্থাৎ যে পদ্ধতিতে কোন সংখ্যা প্রকাশ করা হয় সেই সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবো।

স্কুল পর্যায়ে ICT লিখিত পরীক্ষার সকল পোস্ট দেখতে ক্লিক করুন এখানে।

সংখ্যা পদ্ধতি

যে পদ্ধতিতে কোন সংখ্যা প্রকাশ করা হয় তাকে সংখ্যা পদ্ধতি বলে। যে পদ্ধতিতে বিভিন্ন সংখ্যা লিখে প্রকাশ করা যায় এবং উক্ত সংখ্যাসমূহের উপর বিভিন্ন অপারেশন (+, -, *, /) প্রয়োগসহ হিসাব নিকাশ সম্পাদন করা যায় তাকেই সংখ্যা পদ্ধতি বলে। সংখ্যা পদ্ধতিসমূহ হলো:

  • বাইনারি
  • অকটাল
  • ডেসিমাল
  • হেক্সাডেসিমাল

নন পজিশনাল

নন পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতি একটি প্রাচীন পদ্ধতি। বর্তমানে এই পদ্ধতির ব্যবহার দেখা যায় না বললেই চলে। নন positional সংখ্যা পদ্ধতিতে কোন সংখ্যায় ব্যবহৃত অংক গুলোর কোন স্থানীয় মান থাকেনা শুধুমাত্র নিজস্ব মান থাকে।  অর্থাৎ সংখ্যার মধ্যে ব্যবহৃত অংক গুলো কোন অবস্থানে আছে তার কোন প্রভাব নেই।  সংখ্যায় ব্যবহৃত অংক যেখানেই থাকুক না কেন এদের নিজস্ব মান দাঁড়াই সংখ্যাটির মান নির্ধারণ করা হয়।  যেমন প্রাচীন হায়ারোগ্লিফিক্স সংখ্যা পদ্ধতি। 

পজিশনাল

বর্তমানে বহুল প্রচলিত সংখ্যা পদ্ধতি হচ্ছে পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতি। পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতিতে কোন একটি সংখ্যার মান বের করার জন্য তিনটি ডেটা দরকার হয়। 

  • সংখ্যাটিতে ব্যবহৃত অংক গুলোর নিজস্ব মান
  • সংখ্যা পদ্ধতির বেজ বা ভিত
  •  সংখ্যাটিতে ব্যবহৃত অংক গুলোর অবস্থান

পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতিতে প্রতিটি সংখ্যাকে র‌্যাডিক্স পয়েন্ট (Radix Point) দিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও ভগ্নাংশ এই দুই অংশে ভাগ করা হয়।  যেমন ১২৩.৪৫৬।  এখানে ১২৩  পূর্ণাংশ, (.)  র‌্যাডিক্স পয়েন্ট ও ৪৫৬  ভগ্নাংশ।

নিম্নে প্রচলিত চারটি সংখ্যা পদ্ধতির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হলো:

বাইনারি: আমরা সকলেই জানি কম্পিউটার শুধুমাত্র বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি বুঝতে পারে। কম্পিউটারে সকল কাজ 0 এবং 1 দ্বারা করা হয়।  বাইনারি পদ্ধতিতে ডিজিট মাত্র দুইটি, 0 এবং 1। বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির বেজ বা ভিত্তি 2।  অর্থাৎ একটি বাইনারি সংখ্যা যতই হোক তার মধ্যে অংক শুধুমাত্র 0 এবং 1 থাকবে।  উদাহরণ 1011 

অক্টাল:  অক্টাল হচ্ছে একটি আট ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতি।  অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতির ব্যাপ্তি 0 থেকে 7 পর্যন্ত।  অর্থাৎ একটি অক্টাল সংখ্যা যতই হোক এর মধ্যে ডিজিট 0 থেকে 7 পর্যন্তই হবে।  অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতির বেজ বা ভিত্তি 8। উদাহরণ 456

ডেসিমাল:  বর্তমানে আমরা যেই সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার করি সেটি হচ্ছে ডেসিমাল সংখ্যা পদ্ধতি।  এই সংখ্যা পদ্ধতিকে দশমিক সংখ্যা পদ্ধতিও বলা হয়।  এই সংখ্যা পদ্ধতির সর্বনিম্ন ডিজিট বা অংক 0 এবং সর্বোচ্চ অংক 9।  এটি একটি দশ ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতি।  অর্থাৎ একটি ডেসিমাল সংখ্যা যতই হোক এর মধ্যে অংক 0 থেকে 9 এর মধ্যে থাকবে।  উদাহরণ 789

হেক্সাডেসিমাল:  হেক্সা কথার অর্থ 6 এবং ডেসিমাল কথার অর্থ 10।  একসাথে হেক্সাডেসিমাল এর অর্থ হল ১৬।  অর্থাৎ ১৬ ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতি।  তাহলে আমরা বুঝতেই পারছি যে এই সংখ্যা পদ্ধতিতে সর্বনিম্ন অংক 0 এবং সর্বোচ্চ 15।  তবে এই সংখ্যা পদ্ধতিতে শূন্য থেকে 9 পর্যন্ত অংক বা ডিজিট ব্যবহার করা হয় এবং 10 থেকে 15 পর্যন্ত যথাক্রমে A থেকে F ব্যবহার করা হয়।  অর্থাৎ ১০ এর মান A, ১১ এর মান B, ১২ এর মান C, ১৩ এর মান D ১৪ এর মান e এবং 15 এর মান f।  একটি দেশ একটি হেক্সা ডেসিমাল সংখ্যা যতই হোক তার মধ্যে ডিজিট শুন্য থেকে এফ এর মধ্যে হবে।  উদাহরণ AB17 

সংখ্যা পদ্ধতির রূপান্তর

একটি সংখ্যা পদ্ধতি থেকে অন্য সংখ্যা পদ্ধতিতে সেই সংখ্যার মান কত হবে সেটি বিভিন্ন উপায়ে রূপান্তর বা কনভারশন করা হয়।  এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে হলে এই পর্বের সাথে সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি দেখার অনুরোধ রইলো।  যদি ভিডিও দেখা সম্ভব না হয় তাহলে ভিডিওতে যেভাবে রূপান্তর বা কনভারশন করা হয়েছে সেটির বিভিন্ন সময়ের স্ক্রিনশট নিম্নে দেয়া হলো।

বাইনারি থেকে ডেসিমাল

সংখ্যা পদ্ধতি রূপান্তর - বাইনারি থেকে ডেসিমাল
সংখ্যা পদ্ধতি রূপান্তর – বাইনারি থেকে ডেসিমাল
সংখ্যা পদ্ধতি রূপান্তর - বাইনারি থেকে ডেসিমাল দশমিক
সংখ্যা পদ্ধতি রূপান্তর – বাইনারি থেকে ডেসিমাল দশমিক

অকটাল থেকে ডেসিমাল

অকটাল থেকে ডেসিমাল
অকটাল থেকে ডেসিমাল

হেক্সা থেকে ডেসিমাল

অকটাল থেকে বাইনারি

অকটাল থেকে বাইনারি
অকটাল থেকে বাইনারি

বাইনারি থেকে অকটাল

বাইনারি থেকে অকটাল
বাইনারি থেকে অকটাল

হেক্সা থেকে বাইনারি

হেক্সা থেকে বাইনারি
হেক্সা থেকে বাইনারি

বাইনারি থেকে হেক্সা

সংখ্যা পদ্ধতি রূপান্তর বাইনারি থেকে হেক্সা
বাইনারি থেকে হেক্সা

হেক্সা থেকে অকটাল

সংখ্যা পদ্ধতি রূপান্তর হেক্সা থেকে অকটাল
হেক্সা থেকে অকটাল

ডেসিমাল থেকে বাইনারি

সংখ্যা পদ্ধতি রূপান্তর ডেসিমাল থেকে বাইনারি
ডেসিমাল থেকে বাইনারি

তো এরই সাথে শেষ হলো আজকের সংখ্যা পদ্ধতি সংক্রান্ত আলোচনা। পরবর্তী পোস্ট শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। আপডেট পেতে iSudip YouTube Channel ইউটিউব চ্যানেল এবং iSudip Facebook Page এর সাথে কানেক্ট থাকতে পারেন।

Facebook Comments