312 views

কম্পিউটার সিস্টেম: শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত (ICT) পর্ব ১

By | জানুয়ারী 12, 2020
Advertisment

ICT বিষয়ে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির প্রথম পর্বে আপনাদের সকলকে স্বাগতম। আজ আলোচনা করা হবে কম্পিউটার সিস্টেম নিয়ে। যদিওবা এর আগে এই বিষয়ে একটি পোস্ট করা হয়েছে তবে সেখানে শুধু সিলেবাস এবং এ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যদি আপনারা সেটি না দেখে থাকেন তবে নিচের লিংকে ক্লিক করে দেখে আসতে পারেন।

শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ICT লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

সিলেবাসের প্রথম অধ্যায়টি এখানে দেখানো হবে।

কম্পিউটার সিস্টেম
কম্পিউটার সিস্টেম

কম্পিউটার সিস্টেম কী?

Computer শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে compute থেকে। Compute কথার অর্থ হিসাব করা। কম্পিউটার প্রথমে ব্যবহার করা হতো দ্রুত গতিসম্পন্ন ক্যালকুলেটর হিসেবে। কম্পিউটার ব্যবহার করে জটিল গাণিতিক ও বৈজ্ঞানিক (Scientific) সমস্যা দ্রুত সময়ে সমাধান করা হতো। বিভিন্ন ধরণের সমস্যা সমাধান করা ছাড়াও কম্পিউটার ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজ করা যায়। ব্যবহারকারী কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন তথ্যের উপর অপারেশন করা যায়। ইউজার বা ব্যবহারকারী যে তথ্য প্রদান করে তাকে বলা হয় ইনপুট। এই ইনপুটের উপর ব্যবহারকারীর কমান্ড অনুযায়ী কম্পিউটার কার্য সম্পাদন করে এবং পুনরায় ব্যবহারকারীর কাছে সেটি ফেরত পাঠায়। এই অবস্থায় উক্ত ডাটাকে বলা হয় আউটপুট।

কম্পিউটার সিস্টেম ও ডাটা প্রোসেসর

কোন তথ্যের উপর বিভিন্ন নির্দেশ প্রদান করা হলে যার মাধ্যমে সেগুলো নির্বাহ (execute) করা হয় তাকে বলে কম্পিউটার প্রোগ্রাম (Computer Program)। ইনপুটকে আউটপুটে রুপান্তর করার জন্য যে প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয় তাকে বলা হয় প্রোসেসিং (Processing)। এই কারণে কম্পিউটারকে ডাটা প্রোসেসরও বলা হয়ে থাকে।

বেসিক কম্পিউটার অরগানাইজেশন


১। ইনপুট:

  • নির্দেশনা (Instruction) এবং তথ্য (data) গ্রহণ করে।
  • প্রাপ্ত নির্দেশনা এবং তথ্য কম্পিউটারের ভাষায় রুপান্তর করে।
  • পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য কম্পিউটার সিস্টেমে প্রেরণ করে।

২। অ্যারিথমেটিক লজিক ইউনিট (Arithmetic Logic Unit)

  • গাণিতিক কাজ (+, -, *, /, %)
  • যুক্তিমূলক কাজ (লজিক গেট সংক্রান্ত)
  • উপাত্ত সঞ্চালন (রেজিস্টারে কাজের পর শূন্য অবস্থায় রুপান্তর করা)

৩। কন্ট্রোল ইউনিট:

  • একটি কম্পিউটার সিস্টেমের সকল উপকরণসমূহকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে।
  • CPU বা সেন্ট্রাল প্রোসেসিং ইউনিটকে বলা হয় কম্পিউটারের মগজ। কম্পিউটারের সকল কার্যক্রমের জন্য এটা দায়ী (responsible) থাকে।
  • instruction/নির্দেশনার ধারাবাহিকতা নিয়ন্ত্রণ (কোনটার পর কোনটা আসবে)
  • প্রধান মেমরি থেকে instruction/নির্দেশনা নিয়ে আসা
  • গণনার ফলাফল মেমরিতে পাঠানো
  • প্রধান মেমরির ফলাফল আউটপুটে পাঠানো

৪। মেমরি:

  • আগত তথ্য ও নির্দেশনা প্রধান স্মৃতি অংশে প্রক্রিয়া না শুরু হওয়া পর্যন্ত জমা রাখা
  • প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত নির্দেশনা নির্বাহ
  • প্রক্রিয়াকরণ ফলাফল আউটপুট ডিভাইসে প্রেরণ না করা পর্যন্ত জমা রাখা

৫। আউটপুট:

  • কম্পিউটার সিস্টেমে যে সকল অপারেশন সম্পন্ন হয় সেগুলো গ্রহণ করে।
  • তবে গ্রহণকৃত অংশ কম্পিউটারের ভাষায় থাকে তাই তা প্রদর্শন করার পূর্বে মানুষের বোধগম্য ভাষায় রূপান্তর করে।
  • আউটপুট ডিভাইসে ফলাফল প্রদর্শন করে।

কম্পিউটারের জেনারেশনসমূহ কী কী?

আবিষ্কারের পর থেকে কম্পিউটার বিভিন্ন সময়ে পরিবর্ধন, পরিমর্জন করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এই সকল পরিবর্ধন, পরিমর্জনকে জেনারেশনের মাধ্যমে ভাগ করা হয়ে থাকে। কম্পিউটারের জেনারেশনকে ৫টি ভাগে ভাগ করা যায়।

  • প্রথম প্রজন্ম (১৯৪৬-১৯৫৮) – ভ্যাকুয়াম টিউব
  • দ্বিতীয় প্রজন্ম (১৯৫৮-১৯৬৫) – ট্রানজিস্টর
  • তৃতীয় প্রজন্ম (১৯৬৫-১৯৭১) – ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট
  • চতুর্থ প্রজন্ম (১৯৭১-বর্তমান) – মাইক্রোপ্রসেসর
  • পঞ্চম প্রজন্ম (ভবিষ্যৎ) – কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

*প্রথম প্রজন্ম

  • কার্যকাল ১৯৪৬-১৯৫৮
  • হিসাবের জন্য ভ্যাকুয়াম টিউব টেকনোলজি ব্যবহার করা হতো
  • সেই সময়ের দ্রুততম
  • চুম্বকীয় ড্রাম মেমরি (খুবই সীমিত ধারণক্ষমতা)
  • মেশিন ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করা হতো এবং প্রচুর তাপ উৎপাদন করতো
  • পাঞ্চ কার্ডের উপযোগী ইনপুট/আউটপুট সরঞ্জাম
  • উদাহরণ: ENIVAC, UNIVAC, EDSAC

*দ্বিতীয় প্রজন্ম

  • কার্যকাল ১৯৫৮-১৯৬৫
  • ভ্যাকুয়াম টিউবের বদলে ট্র্যানজিস্টর ব্যবহার করা শুরু হয়
  • অ্যাসেম্বলি ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করা হতো
  • আকারে তুলনামূলক ছোট ও ওজনে কম
  • চুম্বকীয় কোর মেমরির ব্যবহার
  • তুলনামূলক কম পাওয়ার লাগতো
  • এসি প্রয়োজন হতো, রক্ষণাবেক্ষন খরচ বেশি

*তৃতীয় প্রজন্ম

  • কার্যকাল ১৯৬৫-১৯৭১
  • ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) এর ব্যবহার শুরু
  • আকারে ছোট, হাই লেভেল ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করা যেত
  • অর্ধপরিবাহী মেমরির উদ্ভব ও বিকাশ
  • স্টোরেজ ক্ষমতা ছোট, দাম অনেক বেশি এবং এসি প্রয়োজন হতো
  • উদাহরণ IBM 360, IBM 370

*চতুর্থ প্রজন্ম

  • কার্যকাল ১৯৭১-বর্তমান
  • LSI এবং VLSI এর ব্যবহার শুরু
  • নতুন অপারেটিং সিস্টেম, GUI, সহায়ক মেমরি ও LAN ব্যবহার
  • বৃহৎ স্টোরেজ, দ্রুততর
  • রিলায়েবল ও কম রক্ষণাবেক্ষণ
  • কম পাওয়ার
  • মাইক্রো কম্পিউটার ও প্যারালাল প্রসেসিং
  • উদাহরণ IBM 3033, HP 3000 ইত্যাদি

*পঞ্চম প্রজন্ম

  • কার্যকাল ভবিষ্যৎ
  • ULSI, ১ চিপে ১০ মিলিয়ন কম্পোনেন্ট
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
  • সবচেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন, কম্ফোর্টেবল
  • স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ, শ্রবণযোগ্য শব্দ দিয়ে কম্পিউটারের সাথে সংযোগ
  • বিভিন্ন ধরণের কম্পিউটার

প্রয়োগক্ষেত্রের উপর ভিত্তি করে কম্পিউটারের শ্রেণিবিভাগ:

১। সাধারণ কম্পিউটার

২। বিশেষ কম্পিউটার

ক) হাইব্রিড কম্পিউটার

খ) অ্যানালগ কম্পিউটার

গ) ডিজিটাল কম্পিউটার

i) সুপার কম্পিউটার

ii) মেইনফ্রেম কম্পিউটার

iii) মিনি কম্পিউটার

iv) মাইক্রো কম্পিউটার

বিভিন্ন ধরণের কম্পিউটার

পার্সোনাল কম্পিউটার (PC): সিঙ্গেল ইউজার কম্পিউটার যার মাইক্রোপ্রসেসরের ক্ষমতা মধ্যমানের

মিনি কম্পিউটার: এটি একটি মাল্টি ইউজার কম্পিউটার সিস্টেম যা শত শত ইউজার সাপোর্ট করতে পারে

মেইনফ্রেম কম্পিউটার: এটিও মাল্টি ইউজার কম্পিউটার তবে এর সফটওয়্যার টেকনোলজি মিনি কম্পিউটার থেকে ভিন্ন

সুপার কম্পিউটার: বর্তমান বিশ্বে সবথেকে শক্তিশালী কম্পিউটার যা অনেকগুলো মাইক্রোপ্রসেসরের সাহায্যে তৈরি এবং একসাথে লক্ষ লক্ষ ইন্সট্রাকশন এক্সিকিউট করতে পারে।

মোটামুটি এই ছিলো কম্পিউটার সিস্টেম এর বিস্তারিত আলোচনা। ভিডিও দেখার পাশাপাশি এই ব্লগ পোস্টও অনুসরন করতে পারেন। আশা করছি যদি ভিডিওটি সম্পূর্ণ দেখে থাকেন এবং এখানে ব্লগ পোস্টটি পড়ে থাকেন তাহলে কম্পিউটার সিস্টেম নিয়ে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। কোনো ধরণের সমস্যা হলে এখানে অথবা ইউটিউব চ্যানেলে প্রশ্ন করতে পারেন। দেখা হচ্ছে পরের পোস্টে।

Facebook Comments