Monthly Archives: জানুয়ারী 2020

ব্রাঞ্চিং ও লুপিং | শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত (ICT) পর্ব ২.২

Advertisment

ব্রাঞ্চিং ও লুপিং এর আজকের অধ্যায়ে আপনাদের সকলকে স্বাগতম. এটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এর দ্বিতীয় পর্ব। প্রথম পর্বে আমরা প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এর বেশ কিছু বিষয় দেখেছিলাম। যদি আপনি না দেখে থাকে তাহলে দেখে আসতে পারেন

প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ | শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত (ICT) পর্ব ২.১

ব্রাঞ্চিং ও লুপিং

আমার ওয়েবসাইটে আপনি যদি প্রথমবারের মতো এসে থাকেন তাহলে জেনে রাখুন, এটি হচ্ছে ICT বিষয়ে শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ কোর্স।

শিক্ষক নিবন্ধনের সকল পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন।

ব্রাঞ্চিং ও লুপিং

ব্রাঞ্চিং

আমরা আমাদের প্রোগ্রামে যে সকল কোড রান করাই সেগুলো ক্রমান্বয়ে নির্বাহ করা হয়। যাকে ইংলিশে বলা হয় execute by ascending order. তবে মাঝে মধ্যে এই অর্ডার ভেঙ্গে কোড রান করানো প্রয়োজন হয়।

এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ব্রাঞ্চিং (Branching)।

উদাহরণ: if, if-else, nested statement, switch

যে কোনো বিষয়ে শেখার ক্ষেত্রে ব্যবহারিক এর কোনো বিকল্প নেই। আপনি এই ওয়েবসাইট অথবা যে কোনো বই থেকে এ বিষয়ে অনেক ধারণা নিতে পারেন। তবে যদি একইসাথে কোডিং করে শিখতে পারেন তাহলে আমার মনে হয় যে আপনার শেখা সার্থক হবে।

তাই প্রথমেই সি প্রোগ্রামে কোড টি রান করাই।

আমি চাইবো আপনারা নিজের থেকে একদম যেটাকে বলে from the scratch কোডটা লিখতে। তবে যদি না পারেন তার জন্য নিচে কোড দিয়ে দেয়া হলো:

#include <stdio.h>

int main()
{
    int a;
    scanf("%d", &amp;a);
    
    //checking whether a variable is greater than 10 or not using if else
    
    if(a<10){
        printf("a is less than 10\n");
    }
    
    else if(a>10){
        printf("a is greater than 10\n");
    }
    
    else{
        printf("a is equal to 10\n");
    }

    return 0;
}

এবারে আমরা দেখবো সুইচ কেস এর একটি প্রোগ্রাম

#include <stdio.h>

int main()
{
    char result;
    scanf("%c", &amp;result);
    
    switch(result){
        case 'a':
        printf("excellent\n");
        break;
        
        case 'b':
        printf("good\n");
        break;
        
        case 'c':
        printf("average\n");
        break;
        
        default:
        printf("failed");
    }

    return 0;
}

লুপিং

প্রোগ্রামিং এ যখন আমাদের একই কাজ একাধিকবার করার প্রয়োজন হয় তখন আমরা লুপ ব্যবহার করি। যে কোন প্রোগ্রামিং এর জন্য এটি খুবই প্রচলিত একটি পদ্ধতি।

লুপ সাধারণত ৩ প্রকার:

  • While loop
  • Do while loop
  • For loop

বরাবরের মতো এটিও আমরা সি প্রোগ্রামিং এ কোড করে রান করাবো।

আমাদের লক্ষ্য হবে তিন ধরণের লুপ দিয়ে ৫ থেকে ০ পর্যন্ত সংখ্যা প্রিন্ট করা।

#include <stdio.h>

int main()
{
    int a = 5;
    
    //printing 5 to 1 using while loop
    while(a>0){
        printf("%d\t", a);
        a--;
    }
    
    
    //printing 5 to 1 using do while loop
    do{
        printf("%d\n", a);
        a--;
    }while(a>0);
    
    
    //printing 5 to 1 using for loop
    for(a; a>0; a--){
        printf("%d\t", a);
    }
    
    return 0;
}

while loop এ while কিওয়ার্ডটি ব্যবহার করে লুপ তৈরি করা হয়। তারপর ব্রাকেটের মাঝে স্টেটমেন্ট।

do while loop এ loop চলার আগেই একবার প্রোগাম স্টেটমেন্ট রান করে তারপর কন্ডিশন চেক করে।

for loop এ for কিওয়ার্ড ব্যবহার করে তার মধ্যে ২টি সেমিকোলন ব্যবহার করে ভ্যারিয়েবল ইনিশিয়াল এবং কন্ডিশন ও ইনক্রিমেন্ট ডিক্রিমেন্ট করা হয়।

তো এই ছিলো ব্রাঞ্চিং ও লুপিং নিয়ে আজকের পর্ব। আশা করছি আপনি isudip এর ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করেছেন।

না করলে এখনই করে নিন। কারণ সকল পোস্টের বিষয়াবলী নিয়ে ভিডিওতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ | শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত (ICT) পর্ব ২.১

Advertisment

প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এর আজকের অধ্যায়ে আপনাদের সকলকে স্বাগতম। কলেজ পর্যায়ে আইসিটি বিষয়ে শিক্ষক নিবন্ধন এর সিলেবাসটি নিচে দেয়া হলো:

প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ

শিক্ষক নিবন্ধনের সকল পোস্ট পেতে ক্লিক করুন।

আজকে যে সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে তা হলো:

  • প্রোগ্রামিং ভাষা C, C++ ও Java এর সার্বিক চিত্র
  • Constant
  • Variable
  • Data Type
  • Operator
  • Expression

সি (C) প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এর সার্বিক চিত্র

C প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এর উদ্ভব AT&T Bell Laboratrories এ। এর আবিষ্কারক হলেন ডেনিস রিচি এবং ১৯৭২ সালে সর্বপ্রথম এই ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করা হয়। এই ল্যাংগুয়েজ তৈরি করার মূল উদ্দেশ্য ছিলো UNIX অপারেটিং সিস্টেম ডেভেলপ করা যা বর্তমানে বহুল প্রচলিত। প্রথমে এই ল্যাংগুয়েজ শুধুমাত্র Bell Laboratrories এ ব্যবহার করা হলেও খুবই অল্প সময়ের মধ্যে এটা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তৎকালীন সময়ে অন্য যে কোন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এর তুলনায় এর গ্রহণযোগ্যতা ছিল অনেক বেশি। ৭০ দশকের শেষ দিকে এর অবস্থান আরও ভালো হয়। অ্যামেরিকান ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইনস্টিটিউট (ANSI) ১৯৮৯ সালে C ল্যাংগুয়েজের একটি ভার্সন অনুমোদন করে যার নাম রাখা হয় ANSI C. ১৯৯০ সালে ANSI C ল্যাংগুয়েজটি ISO কর্তৃক গৃহীত হয়। এই ল্যাংগুয়েজের নাম C রাখার কারণ হলো এর পূর্বে আরেকটি ল্যাংগুয়েজ ছিল যার নাম ছিল B এবং সেটি ডেভেলপ করেছিলেন Ken Thompson.

সি প্লাস প্লাস (C++) প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এর সার্বিক চিত্র

C++ ভাষাটির লেখক Bjarne Stroustrup. তিনিও Bell Laboratrories এর। ১৯৮৩-১৯৮৫ সালের মধ্যে C++ প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ডেভেলপ করা হয়। এটি মূলত C ল্যাংগুয়েজ এর একটি বর্ধিত ভার্সন। C এর সকল বৈশিষ্ট্যের সাথে নতুন কিছু যুক্ত করা হয় বলে একে প্রথমে বলা হতো C with Classes. C এর সকল গুণাবলীর সাথে C++ এ যুক্ত করা হয়েছে অবজেক্ট অরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং (OOP). ১৯৮৩ সালে সর্বপ্রথম C++ নামটি ব্যবহার করা হয়। C++ এর মাধ্যমে কোডকে আরও উন্নত ও শক্তিশালী করা যায়।

JAVA প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এর সার্বিক চিত্র

JAVA প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ডেভেলপ করা হয় ১৯৯১ সালে এবং এর ডেভেলপারের নাম James Gosling. এই ভাষাটি Sun Microsystem থেকে ডেভেলপ করা হয়। JAVA প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের মূল ভার্সনটি হোম অ্যাপ্লায়েন্সে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৯৪ সালে জেমস গসলিং জাভা ল্যাংগুয়েজটিকে ইন্টারনেটে সংযুক্ত করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে Netscape Incorporated নামের একটি কোম্পানি Netscape Browser এর মাধ্যমে JAVA প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ RUN করাতে সক্ষম হয়। JAVA প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের পূর্বনাম ছিল OAK তবে এটি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি কারণ সেসময় অন্য একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ একই নামে ছিল। JAVA নামকরণ করা হয় একটি কফি বিন থেকে।

কনস্ট্যান্ট (Constant) কী?

প্রোগ্রাম নির্বাহের সময় কোন অবস্থাতেই যার মান পরিবর্তন করা যায় না তাকে Constant বা ধ্রুবক বলে। প্রোগ্রামে কোন স্থির বা অপরিবর্তনশীল মান ব্যবহার করার জন্য কনস্ট্যান্ট ঘোষণা করা হয়।

C/C++ প্রোগ্রামে Constant লেখার নিয়ম:

#include<stdio.h>
int main(){
    const PI = 3.1416;
}

JAVA প্রোগ্রামে Constant লেখার নিয়ম:

public final double PI = 3.14159;

ভ্যারিয়েবল (Variable) বা চলক কী?

প্রোগ্রামিং ভাষায় মেমরিতে ডাটা সংরক্ষণ করতে যে নাম ব্যবহার করা হয় তাকে ভ্যারিয়েবল (Variable) বা চলক বলে। ভ্যারিয়েবল হলো মেমরি লোকেশনের নাম বা ঠিকানা। প্রোগ্রামে যখন কোন ডাটা নিয়ে কাজ করা হয় প্রাথমিকভাবে সেগুলো কম্পিউটারের র‌্যামে রাখা হয়। এক্ষেত্রে মেমরি অ্যাড্রেস সরাসরি ব্যবহার না করে একটি নাম দিয়ে ঐ নামের অধীনে রাখা হয়। ঐ নামকেই ভ্যারিয়েবল বলে। ডিক্লারেশনের উপর ভিত্তি করে ভ্যারিয়েবল ২ প্রকার।

  • লোকাল ভ্যারিয়েবল [কোন ফাংশনের ভিতরে ডিক্লেয়ার করা হয়]
  • গ্লোবাল ভ্যারিয়েবল [ফাংশনের বাইরে ডিক্লেয়ার করা হয়]

ভ্যারিয়েবল নামকরণের নিয়ম:

  • প্রথম অক্ষরটি অবশ্যই বর্ণ হবে (a……z, A…….Z)
  • প্রথম অক্ষরের পর আলফাবেটিক ক্যারেক্টার, ডিজিট (0-9) এবং আন্ডারস্কোর ছাড়া অন্য ক্যারেক্টার ব্যবহার করা যায় না
  • একই নামে একাধিক ভ্যারিয়েবল ব্যবহার করা যাবে না
  • নামের মধ্যে কোন ফাঁকা স্থান থাকতে পারবে না
  • নাম ডিজিট বা অঙ্ক দিয়ে শুরু করা যাবে না
  • ভ্যারিয়েবলের নাম case sensitive অর্থাৎ ছোট হাতের অক্ষর ও বড় হাতের অক্ষর আলাদা অর্থ বহন করে
  • রিজার্ভ কিওয়ার্ড ভ্যারিয়েবলের নাম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

C/C++ এর ভ্যারিয়েবল ডিক্লেয়ার করার নিয়ম:

#include<stdio.h>
int main(){
    int a = 5;
    int b, c, d;
    int e=10, f=12;
}

C/C++ প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের ডাটা টাইপ

১। ইউজার ডিভাইন্ড

  • Structure
  • Union
  • Class
  • Enumeration

২। বিল্ট ইন

  • Integral
    • Character
    • Integer
  • Void
  • Float
    • Float
    • Double

৩। ডিরাইভড

  • Array
  • Function
  • Pointer
  • Reference
  • JAVA প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের ডাটা টাইপ

JAVA প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এর ডাটা টাইপ মূলত ২ ধরণের

১। Primitive

  • Boolean
  • Byte
  • Short
  • Integer
  • Long
  • Float
  • Double
  • Character

২। Non Primitive

  • String
  • Array

অপারেটর (Operator) কী?

গাণিতিক এবং যৌক্তিক কাজ করার জন্য যে সকল চিহ্ন (যেমন +, -, *, /) ব্যবহার করা হয় তাকে অপারেটর বলে। যেমন:

  • Arithmetic (+, -, *, /, %)
  • Relational (<, <=, >, >=, ==, !=)
  • Logical (||, &&, !)
  • Conditional (?, 🙂
  • Increment and Decrement (++, –)
  • Special operator (, , sizeof)
  • Bitwise Operator (|, &, ^, <<, >>, ~)
  • Assignment (=)

এক্সপ্রেশন (Expression) কী?

কতগুলো অপারেন্ড, অপারেটর এবং কনস্ট্যান্টের অর্থবোধক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ উপস্থাপনকে এক্সপ্রেশন (Expression) বলে। 


যেমন, avg = (v1+v2)/2;

এখানে avg, v1, v2 ও 2 হলো অপারেন্ড এবং /, = ও + হলো অপারেটর।

আজকের পর্ব এখানেই শেষ। প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ অন্য বিষয়সমূহ পরবর্তী পর্বে দেখানো হবে।

কম্পিউটার সিস্টেম: শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত (ICT) পর্ব ১

Advertisment

ICT বিষয়ে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির প্রথম পর্বে আপনাদের সকলকে স্বাগতম। আজ আলোচনা করা হবে কম্পিউটার সিস্টেম নিয়ে। যদিওবা এর আগে এই বিষয়ে একটি পোস্ট করা হয়েছে তবে সেখানে শুধু সিলেবাস এবং এ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যদি আপনারা সেটি না দেখে থাকেন তবে নিচের লিংকে ক্লিক করে দেখে আসতে পারেন।

শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ICT লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

সিলেবাসের প্রথম অধ্যায়টি এখানে দেখানো হবে।

কম্পিউটার সিস্টেম
কম্পিউটার সিস্টেম

কম্পিউটার সিস্টেম কী?

Computer শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে compute থেকে। Compute কথার অর্থ হিসাব করা। কম্পিউটার প্রথমে ব্যবহার করা হতো দ্রুত গতিসম্পন্ন ক্যালকুলেটর হিসেবে। কম্পিউটার ব্যবহার করে জটিল গাণিতিক ও বৈজ্ঞানিক (Scientific) সমস্যা দ্রুত সময়ে সমাধান করা হতো। বিভিন্ন ধরণের সমস্যা সমাধান করা ছাড়াও কম্পিউটার ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজ করা যায়। ব্যবহারকারী কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন তথ্যের উপর অপারেশন করা যায়। ইউজার বা ব্যবহারকারী যে তথ্য প্রদান করে তাকে বলা হয় ইনপুট। এই ইনপুটের উপর ব্যবহারকারীর কমান্ড অনুযায়ী কম্পিউটার কার্য সম্পাদন করে এবং পুনরায় ব্যবহারকারীর কাছে সেটি ফেরত পাঠায়। এই অবস্থায় উক্ত ডাটাকে বলা হয় আউটপুট।

কম্পিউটার সিস্টেম ও ডাটা প্রোসেসর

কোন তথ্যের উপর বিভিন্ন নির্দেশ প্রদান করা হলে যার মাধ্যমে সেগুলো নির্বাহ (execute) করা হয় তাকে বলে কম্পিউটার প্রোগ্রাম (Computer Program)। ইনপুটকে আউটপুটে রুপান্তর করার জন্য যে প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয় তাকে বলা হয় প্রোসেসিং (Processing)। এই কারণে কম্পিউটারকে ডাটা প্রোসেসরও বলা হয়ে থাকে।

বেসিক কম্পিউটার অরগানাইজেশন


১। ইনপুট:

  • নির্দেশনা (Instruction) এবং তথ্য (data) গ্রহণ করে।
  • প্রাপ্ত নির্দেশনা এবং তথ্য কম্পিউটারের ভাষায় রুপান্তর করে।
  • পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য কম্পিউটার সিস্টেমে প্রেরণ করে।

২। অ্যারিথমেটিক লজিক ইউনিট (Arithmetic Logic Unit)

  • গাণিতিক কাজ (+, -, *, /, %)
  • যুক্তিমূলক কাজ (লজিক গেট সংক্রান্ত)
  • উপাত্ত সঞ্চালন (রেজিস্টারে কাজের পর শূন্য অবস্থায় রুপান্তর করা)

৩। কন্ট্রোল ইউনিট:

  • একটি কম্পিউটার সিস্টেমের সকল উপকরণসমূহকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে।
  • CPU বা সেন্ট্রাল প্রোসেসিং ইউনিটকে বলা হয় কম্পিউটারের মগজ। কম্পিউটারের সকল কার্যক্রমের জন্য এটা দায়ী (responsible) থাকে।
  • instruction/নির্দেশনার ধারাবাহিকতা নিয়ন্ত্রণ (কোনটার পর কোনটা আসবে)
  • প্রধান মেমরি থেকে instruction/নির্দেশনা নিয়ে আসা
  • গণনার ফলাফল মেমরিতে পাঠানো
  • প্রধান মেমরির ফলাফল আউটপুটে পাঠানো

৪। মেমরি:

  • আগত তথ্য ও নির্দেশনা প্রধান স্মৃতি অংশে প্রক্রিয়া না শুরু হওয়া পর্যন্ত জমা রাখা
  • প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত নির্দেশনা নির্বাহ
  • প্রক্রিয়াকরণ ফলাফল আউটপুট ডিভাইসে প্রেরণ না করা পর্যন্ত জমা রাখা

৫। আউটপুট:

  • কম্পিউটার সিস্টেমে যে সকল অপারেশন সম্পন্ন হয় সেগুলো গ্রহণ করে।
  • তবে গ্রহণকৃত অংশ কম্পিউটারের ভাষায় থাকে তাই তা প্রদর্শন করার পূর্বে মানুষের বোধগম্য ভাষায় রূপান্তর করে।
  • আউটপুট ডিভাইসে ফলাফল প্রদর্শন করে।

কম্পিউটারের জেনারেশনসমূহ কী কী?

আবিষ্কারের পর থেকে কম্পিউটার বিভিন্ন সময়ে পরিবর্ধন, পরিমর্জন করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এই সকল পরিবর্ধন, পরিমর্জনকে জেনারেশনের মাধ্যমে ভাগ করা হয়ে থাকে। কম্পিউটারের জেনারেশনকে ৫টি ভাগে ভাগ করা যায়।

  • প্রথম প্রজন্ম (১৯৪৬-১৯৫৮) – ভ্যাকুয়াম টিউব
  • দ্বিতীয় প্রজন্ম (১৯৫৮-১৯৬৫) – ট্রানজিস্টর
  • তৃতীয় প্রজন্ম (১৯৬৫-১৯৭১) – ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট
  • চতুর্থ প্রজন্ম (১৯৭১-বর্তমান) – মাইক্রোপ্রসেসর
  • পঞ্চম প্রজন্ম (ভবিষ্যৎ) – কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

*প্রথম প্রজন্ম

  • কার্যকাল ১৯৪৬-১৯৫৮
  • হিসাবের জন্য ভ্যাকুয়াম টিউব টেকনোলজি ব্যবহার করা হতো
  • সেই সময়ের দ্রুততম
  • চুম্বকীয় ড্রাম মেমরি (খুবই সীমিত ধারণক্ষমতা)
  • মেশিন ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করা হতো এবং প্রচুর তাপ উৎপাদন করতো
  • পাঞ্চ কার্ডের উপযোগী ইনপুট/আউটপুট সরঞ্জাম
  • উদাহরণ: ENIVAC, UNIVAC, EDSAC

*দ্বিতীয় প্রজন্ম

  • কার্যকাল ১৯৫৮-১৯৬৫
  • ভ্যাকুয়াম টিউবের বদলে ট্র্যানজিস্টর ব্যবহার করা শুরু হয়
  • অ্যাসেম্বলি ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করা হতো
  • আকারে তুলনামূলক ছোট ও ওজনে কম
  • চুম্বকীয় কোর মেমরির ব্যবহার
  • তুলনামূলক কম পাওয়ার লাগতো
  • এসি প্রয়োজন হতো, রক্ষণাবেক্ষন খরচ বেশি

*তৃতীয় প্রজন্ম

  • কার্যকাল ১৯৬৫-১৯৭১
  • ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) এর ব্যবহার শুরু
  • আকারে ছোট, হাই লেভেল ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করা যেত
  • অর্ধপরিবাহী মেমরির উদ্ভব ও বিকাশ
  • স্টোরেজ ক্ষমতা ছোট, দাম অনেক বেশি এবং এসি প্রয়োজন হতো
  • উদাহরণ IBM 360, IBM 370

*চতুর্থ প্রজন্ম

  • কার্যকাল ১৯৭১-বর্তমান
  • LSI এবং VLSI এর ব্যবহার শুরু
  • নতুন অপারেটিং সিস্টেম, GUI, সহায়ক মেমরি ও LAN ব্যবহার
  • বৃহৎ স্টোরেজ, দ্রুততর
  • রিলায়েবল ও কম রক্ষণাবেক্ষণ
  • কম পাওয়ার
  • মাইক্রো কম্পিউটার ও প্যারালাল প্রসেসিং
  • উদাহরণ IBM 3033, HP 3000 ইত্যাদি

*পঞ্চম প্রজন্ম

  • কার্যকাল ভবিষ্যৎ
  • ULSI, ১ চিপে ১০ মিলিয়ন কম্পোনেন্ট
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
  • সবচেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন, কম্ফোর্টেবল
  • স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ, শ্রবণযোগ্য শব্দ দিয়ে কম্পিউটারের সাথে সংযোগ
  • বিভিন্ন ধরণের কম্পিউটার

প্রয়োগক্ষেত্রের উপর ভিত্তি করে কম্পিউটারের শ্রেণিবিভাগ:

১। সাধারণ কম্পিউটার

২। বিশেষ কম্পিউটার

ক) হাইব্রিড কম্পিউটার

খ) অ্যানালগ কম্পিউটার

গ) ডিজিটাল কম্পিউটার

i) সুপার কম্পিউটার

ii) মেইনফ্রেম কম্পিউটার

iii) মিনি কম্পিউটার

iv) মাইক্রো কম্পিউটার

বিভিন্ন ধরণের কম্পিউটার

পার্সোনাল কম্পিউটার (PC): সিঙ্গেল ইউজার কম্পিউটার যার মাইক্রোপ্রসেসরের ক্ষমতা মধ্যমানের

মিনি কম্পিউটার: এটি একটি মাল্টি ইউজার কম্পিউটার সিস্টেম যা শত শত ইউজার সাপোর্ট করতে পারে

মেইনফ্রেম কম্পিউটার: এটিও মাল্টি ইউজার কম্পিউটার তবে এর সফটওয়্যার টেকনোলজি মিনি কম্পিউটার থেকে ভিন্ন

সুপার কম্পিউটার: বর্তমান বিশ্বে সবথেকে শক্তিশালী কম্পিউটার যা অনেকগুলো মাইক্রোপ্রসেসরের সাহায্যে তৈরি এবং একসাথে লক্ষ লক্ষ ইন্সট্রাকশন এক্সিকিউট করতে পারে।

মোটামুটি এই ছিলো কম্পিউটার সিস্টেম এর বিস্তারিত আলোচনা। ভিডিও দেখার পাশাপাশি এই ব্লগ পোস্টও অনুসরন করতে পারেন। আশা করছি যদি ভিডিওটি সম্পূর্ণ দেখে থাকেন এবং এখানে ব্লগ পোস্টটি পড়ে থাকেন তাহলে কম্পিউটার সিস্টেম নিয়ে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। কোনো ধরণের সমস্যা হলে এখানে অথবা ইউটিউব চ্যানেলে প্রশ্ন করতে পারেন। দেখা হচ্ছে পরের পোস্টে।

শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ICT লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

Advertisment

কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি বিষয়ক সিরিজ পোস্টে আপনাদের সকলকে স্বাগতম। এই ধারাবাহিক সিরিজে আমি থাকছি আপনাদের সাথে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধনের যাবতীয় বিষয়ে ধারণা দিতে। যে বিষয় নিয়ে লেখা হবে তা হলো কম্পিউটার সাইন্স (কোড ৪৩১)।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন প্রক্রিয়া (এনটিআরসিএ)

প্রথমেই কথা বলা যাক এনটিআরসিএ নিয়ে। এনটিআরসিএ NTRCA এর পূর্ণরূপ হলো Non Government Teachers Registration and Certification Authority. অর্থাৎ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ। একসময় কমিটি কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হলেও বর্তমানে সকল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এনটিআরসিএর মাধ্যমে। এনটিআরসিএ হলো বেসরকারি স্কুল বা কলেজে শিক্ষক বা প্রভাষক হিসেবে যোগদানের একমাত্র মাধ্যম। আপনার লক্ষ্য যদি হয় শিক্ষকতা পেশা তাহলে আপনাকে অবশ্যই এই পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হতে হবে। যদিওবা এক সময় এটা অনেক সহজ প্রক্রিয়া ছিলো তবে বর্তমানে এটা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। খুব ভালো প্রস্তুতি না নিলে উত্তীর্ণ হওয়া মুশকিল।

কম্পিউটার সাইন্স ৪৩১

আসন্ন সম্পূর্ণ সিরিজে যেই বিষয়টি দেখানো হবে তা হলো কম্পিউটার সাইন্স এবং এর কোড নং ৪৩১। এই বিষয়ে আবেদন করতে হলে আপনাকে কম্পিউটার সাইন্স বিষয়ে ৪ বছর মেয়াদী অনার্স/বিএসসি সার্টিফিকেট থাকতে হবে। সম্পূর্ণ কোর্সটি হবে বাংলা ভাষায় তাই এই সিরিজের পোস্টগুলি ক্রমান্বয়ে দেখতে থাকুন। টেক্সট এর পাশাপাশি ভিডিওতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে তাই অবশ্যই আমার ইউটিউব চ্যানেলে চোখ রাখুন। সময়মতো আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করে বেল আইকন ক্লিক করে রাখতে পারেন। আমার ইউটিউব চ্যানেলের লিংক: iSudip

সিলেবাস

এই পর্বে কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে না। তবে এই বিষয়ে পরবর্তীতে পোস্ট করা হবে। শুধু সিলেবাসটায় একটু নজর দেয়া যাক। মোট ১৫টি চ্যাপ্টার রয়েছে। সবগুলো নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। সিলেবাসের স্ক্রিনশট নিচে দেয়া হলো:

আশা করছি দেখেই বুঝতে পারছেন, সিলেবাসটি বেশ বড়। আপনার ৪ বছরের অনার্স/বি এস সি তে যা পড়েছেন তার অনেকটাই এর ভিতর আছে। সবগুলো অধ্যায়ই দেখানো হবে এবং পড়ে আসা টপিকগুলো ঝালাই হয়ে যাবে। ভালোমতো প্রস্তুতি নিলে আপনিও উপকৃত হবেন আশা করি। ভালো থাকবেন এবং ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেল ফলো করতে থাকুন, ধন্যবাদ।